সূচক ১০ হাজার পয়েন্ট ছাড়ালেও সমস্যা নেই : বিএসইসি চেয়ারম্যান

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯:১৫

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খায়রুল হোসেন বলেছেন, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। বাজার এখন নিজস্ব শক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গতিতে সূচক ১০ হাজার পয়েন্ট ছাড়ালেও কোনো সমস্যা হবে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এসব কথা জানান।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন,  কয়েকদিন আগে বাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। বুধবার সূচক ৪ হাজার ৮০০ অতিক্রম করেছে। এভাবে যদি ১০ হাজার পয়েন্টও অতিক্রম করে তবে কোনো সমস্যা হবে না। এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনেক আইনগত পরিবর্তন হয়েছে। তবে আজকের এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে সরকারের পুঁজিবাজার নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকার কারণে। আমাদের দেশের পুঁজিবাজার ইউরোপ- আমেরিকার দেশের পুঁজিবাজারের মতোই। তবে এখন বাজারে মাল্টি প্রোডাক্টের অভাব রয়েছে।

আগামী ৩ মাসের মধ্যেই স্বল্প মূলধনী কোম্পানির আলাদা বোর্ড বাজারে আনা হবে। তাতে বাজারে নতুন অর্থ যুক্ত হবে। জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবদানও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শেয়ারবাজার মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব কে. এ. এম মাজেদুর রহমান,  ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশের সভাপতি ছায়েদুর রহমান প্রমুখ।

কে. এ. এম মাজেদুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে আমাদের পুঁজিবাজারের একটি ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশংসা পেয়েছি। বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে, বিগত কয়েক মাসে তাদের লেনদেনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যার পরিমাণ এখন ১০ শতাংশের উপরে। এই বাজারে এতো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশীয় বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। বিশেষ করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে পুঁজিবাজার থেকে সরাসরি অর্থ উত্তোলন করতে পারে না। এগুলোর  সমাধান হলে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, ডিএসই অন্যান্য দেশের উন্নত পুঁজিবাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দামী ইঞ্জিন স্থাপন করে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করেছে, যা এই এগিয়ে যাওয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে।শেয়ারবাজারের নতুন ব্র্যান্ডিং আর সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই বাজারের সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে বর্ণাঢ্য এই মেলার আয়োজন করেছে। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ৩ দিনের এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উম্মুক্ত থাকবে। এক্সপোতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট লাগবে না। এছাড়া প্রবেশে কুপনের র‍্যাফেল ড্রতে মোটরসাইকেল, মোবাইলসহ মূল্যবান সব পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন,  সুন্দর মেলা হচ্ছে। যেটা বাজারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন বাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে। এর কারণেই ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিবছরই অর্থসূচককে এ মেলা এগিয়ে নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার এখন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। এর পিছনে বর্তমান সরকারের অনেক ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, এরপরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে নতুন প্রোডাক্ট চালু করার প্রয়োজন রয়েছে। আইনগত সীমাবদ্ধতার সমাধান করতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে আনতে হবে।