৪% দাম কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১০:৩৪ | আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৩:৩৯

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন সীমা নির্ধারণে চুক্তি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির বাজারদরে। একদিনের মধ্যে ৪ শতাংশ দাম পড়েছে পণ্যটির।

লন্ডনের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) মঙ্গলবার ব্যারেলে ১ দশমিক ৮৭ ডলার দাম কমেছে ব্রেন্ট অয়েলের। এ দিন ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অয়েল ৪ দশমিক ৩৭ ডলারে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) ব্যারেলে ১ দশমিক ৮৫ ডলার কমেছে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম। মঙ্গলবার এখানে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয় ৪৫ দশমিক ২৩ ডলারে।

শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের সদস্য দেশগুলো গতকাল ভিয়েনায় এক বৈঠকে মিলিত হয়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে এনে এর দামকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। আগের বৈঠকে (২৬-২৮ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়) বিষয়টি নিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল ওপেক। সে সময় ওপেকভুক্ত দেশগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক উত্তোলন ৩ কোটি ২৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলের মধ্যে সীমিত রাখতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভিয়েনার বৈঠকে নেয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে— এখনো পর্যন্ত সেটি জানা না গেলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের উত্তোলন সীমা আরোপ-সংক্রান্ত চুক্তিটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগ।

ভিয়েনার বৈঠকে ওপেক বহির্ভূত শীর্ষ উত্তোলক দেশগুলোকেও রাখার চেষ্টা করেছিল সংগঠনটি। কিন্তু অন্যতম শীর্ষ উত্তোলক দেশ সৌদি আরব এতে আপত্তি জানায়। আপত্তির মুখে ওপেক বহির্ভূত শীর্ষ উত্তোলক দেশগুলোকে এ বৈঠকে শামিলে ব্যর্থ হয়েছে সংগঠনটি। তবে ওপেক-বহির্ভূত অন্যতম শীর্ষ তেল উত্তোলক দেশ রাশিয়া এ বৈঠকে অংশ না নিলেও উত্তোলন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে। গত মঙ্গলবার দেশটি নিশ্চিত করেছে যে, তারা এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না। তবে পরবর্তী যে কোনো সময়ে বৈঠকে বসতে রাশিয়া আগ্রহী।

জ্বালানি তেলের উত্তোলন-সংক্রান্ত চুক্তিটি বাস্তবায়নে ওপেকের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান ও ইরাক। দেশ দুটি চাইছে, ওপেক উত্তোলন-সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা থেকে তাদের যেন বাদ রাখা হয়। ইরান ও ইরাকের এমন অবস্থানের পেছনে সৌদি আরব কলকাঠি নাড়ছে, এমন অভিমত বিশ্লেষকদের। ইরান-ইরাকের পাশাপাশি লিবিয়া ও নাইজেরিয়া উত্তোলন কমিয়ে আনার বিপক্ষে। এমন অবস্থায় জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে আনা হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে পণ্যটি।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন-সীমা আরোপ-সংক্রান্ত চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে পণ্যটির দর ব্যারেলে ৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি জ্বালানি তেলের দৈনিক উত্তোলন ৩ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেলের মধ্যে সীমিত রাখা সম্ভব হয়, তবে পণ্যটি ব্যারেল প্রতি ৫০ ডলারে পৌঁছে যাবে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যদি এ ধরনের কোনো চুক্তি করতে ওপেক ব্যর্থ হয়, তাহলে জ্বালানি তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ২০১৭ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত হয়তো পণ্যটির গড় দাম থাকবে ব্যারেলে ৪৫ ডলার।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে জ্বালানি তেলের দরপতন শুরু হয়। পরবর্তী আড়াই বছরে পণ্যটির দাম কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। বড় ধরনের দরপতনের কারণে তেলনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ কারণে ওপেকভুক্ত ও বহির্ভূত বেশ কয়েকটি দেশ চাইছে উত্তোলন কমিয়ে এনে দাম বাড়াতে। তবে কোনো কোনো দেশ এর বিরোধিতাও করছে।