অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৬, ১৫:২৯

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলনসীমা আরোপ নিয়ে বুধবার ভিয়েনায় বৈঠকে বসছে শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক। এ বৈঠক থেকে উত্তোলনসীমা আরোপের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে— এমন সম্ভাবনায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে পণ্যটির দর।

নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) সোমবার আগামী বছরের জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে ব্যারেলে ১ দশমিক শূন্য ২ ডলার দাম বেড়েছে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিইটিআই)। এদিন ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয়েছে ৪৭ দশমিক শূন্য ৮ ডলারে।

অন্যদিকে লন্ডনের ইন্টার কন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) জানুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্ট অয়েলের দাম বেড়েছে ব্যারেলে ১ ডলার। এদিন দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট অয়েল ৪৮ দশমিক ২৪ ডলারে বিক্রি হয়।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশ পড়ে যায়। ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোর সঙ্গে ওপেকভুক্ত অন্যতম শীর্ষ উত্তোলক দেশ সৌদি আরব বৈঠকে বসতে অসম্মতি প্রকাশ করার পর দাম কমে যায় পণ্যটির। ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক না হলেও সদস্য দেশগুলো পণ্যটি উত্তোলনে নির্দিষ্ট সীমার চুক্তির বিষয়ে খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। এ কারণে গত সপ্তাহের শেষ দিনে বড় ধরনের দরপতন ঘটলেও ফের ঘুরে দাঁড়িয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার।

জ্বালানি তেলের বর্তমান বাজার প্রসঙ্গে মরগান স্ট্যানলি ব্যাংকের বিশ্লেষক জানান, ‘মতৈক্য না হওয়ায় ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোর সঙ্গে ওপেকের বৈঠক বাতিল হয়েছে। তবে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে সংগঠনটি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওপেকের এ বৈঠক থেকে জ্বালানি তেলের দৈনিক উত্তোলন ৩ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেলের মধ্যে সীমিত রাখতে জোরালোভাবে ঘোষণা আসতে পারে। এটি সম্ভব হলে পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি অন্তত ৫ ডলার বাড়বে। যদি ওপেকবহির্ভূত দেশগুলো এতে সমর্থন করে, তাহলে আরো ভালো অবস্থানে চলে আসবে পণ্যটির দাম।’

তবে জ্বালানি তেলের উত্তোলন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেঁধে রাখতে ওপেককে সবচেয়ে বেশি কাঠখড় পোড়াতে হবে ইরান ও ইরাককে নিয়ে। দেশ দুটি চাইছে, উত্তোলনসীমা আরোপে তাদের জন্য পৃথক নীতিমালা হোক। এর সপক্ষে যুক্তিও দাঁড় করিয়েছে তারা। এ সম্পর্কে ওপেকের একটি সূত্র সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘ওপেক এখনো ইরাক ও ইরানের বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেনি।’

পণ্যবাজার বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেছেন, ‘জ্বালানি তেলের উত্তোলনসীমা আরোপের সম্ভাবনা ৫০ ভাগ। যদি এ বৈঠকে পণ্যটিতে উত্তোলনসীমা আরোপে সব দেশ সম্মত না হয়, তাহলে পণ্যটির দাম ব্যারেলে ৪০ ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে।’

ইরান ও ইরাকের পাশাপাশি লিবিয়া ও নাইজেরিয়াও চাইছে ওপেক যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে। এজন্য দেশগুলো জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।

নিমেক্সে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পাশাপাশি দাম বেড়েছে গ্যাসোলিন ও হিটিং অয়েলের। সোমবার ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে গ্যালনে ৪ সেন্ট বেড়েছে গ্যাসোলিনের দাম। এদিন ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিন বিক্রি হয়েছে ১ দশমিক ৪১৩ ডলারে। অন্যদিকে ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে গ্যালনে ৪ দশমিক ৩ সেন্ট দাম বেড়েছে হিটিং অয়েলের। সোমবার ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি গ্যালন হিটিং অয়েল বিক্রি হয়েছে ১ দশমিক ৫১৩ ডলারে।