স্বর্ণ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে ভারত

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ১০:৫২

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

স্বর্ণ আমদানিতে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হলে রত্ন ও গহনা রফতানি বাড়বে। পাশাপাশি চোরাচালানও কমে আসবে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।

তার ভাষ্যে, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) বজায় রাখার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের বিষয়টি সমর্থনযোগ্য হতে পারে। কিন্তু এর ফলে স্বর্ণের চোরাচালান বেড়ে যেতে পারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সীতারমন আরো বলেন, দিল্লি, কোচি ও চেন্নাইয়ের মতো জায়গাগুলো স্বর্ণ চোরাচালানের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। পিটিআইকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি এসব তথ্য দেন।

নির্মলা সীতারমনের তথ্যানুযায়ী, বিওপি পয়েন্ট থেকে বিবেচনা করলে বিধিনিষেধ জারি রাখার সিদ্ধান্ত ভালো। কিন্তু বিধিনিষেধ অনেক অবাঞ্ছিত চ্যানেল সৃষ্টি করে। তাই স্বর্ণ আমদানিতে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পক্ষে আমি। আমদানিকৃত স্বর্ণ মূলত ব্যবহার করেন ভারতের রত্ন ও গহনা রফতানিকারকরা। এছাড়া বিনিয়োগের আদর্শ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নেন বিনিয়োগকারীরা। লাভজনক হওয়ায় হস্তশিল্প এবং রত্ন ও গহনা রফতানিকারকরা কাঁচামাল হিসেবে স্বর্ণ ব্যবহার করেন। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী গত বছর স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই সময় পরিস্থিতি এ প্রস্তাবের অনুকূল না হওয়ায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন যখন দেশের অর্থনীতি প্রশ্নবিদ্ধ, তখন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সামনে একটি প্রেজেন্টেশন দেয়ার কথাও জানালেন তিনি। এর পরই অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যাবে।

ভারতের মোট রফতানির ১৩ শতাংশ রত্ন ও গহনা। চলতি বছরের অক্টোবরে এ দুই পণ্য রফতানির হার ২২ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৪৩৮ কোটি ডলারে। অন্যদিকে টানা আট মাস স্বর্ণ আমদানি কমার পর এ সময় দ্বিগুণ বেড়েছে। অক্টোবরে ৩৫০ কোটি ডলারের স্বর্ণ আমদানি করেছে ভারত। গত বছরের একই সময় আমদানি হয়েছিল ১৬৭ কোটি ডলারের স্বর্ণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (এপ্রিল-জুলাই) দেশটিতে সরকারিভাবে স্বর্ণ আমদানি গত অর্থবছরের তুলনায় কমেছে ৬০ টন। 

২০১৫-১৬ অর্থবছর বিশ্বে স্বর্ণের দ্বিতীয় শীর্ষ ভোক্তার জায়গা করে নিয়েছে ভারত। এক্ষেত্রে চীনের পরই এর স্থান। ওই সময় দেশটি আমদানি করেছে ৬৫০ টন স্বর্ণ। বর্তমানে স্বর্ণ আমদানিতে আমদানিকারকদের ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। রত্ন ও গহনা খাত এ হার ৫ শতাংশ করার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে। ২০১৩ সালে স্বর্ণ আমদানি ও চলতি হিসাব ঘাটতি (সিএডি) কমাতে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্কের হার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করে ভারত সরকার।