যশোরের তৈরি পাখির বাসা এখন ইউরোপে

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৩:২৬

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

পাখির বাসা বুনে নিজের পরিবার সুরক্ষিত করছে যশোরের দুই শতাধিক নর-নারী। বাঁশ, বেত, নারকেলের ছোবড়া, পাট, বাঁশপাতা, বিছালী আর সূতা দিয়ে বোনা এই বাসা দেশের গন্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে সুদুর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। বাঁশ আর বেত দিয়ে পাখির ছোট্ট বাসা তৈরি করে ঋষি সম্প্রদায়ের পুরুষেরা। আর নারকেলের ছোবড়া, পাট, বাঁশপাতা, সূতার বাসা তৈরি হয় নারীর হাতে। খাচায় পোষা পাখির জন্যেই তৈরি করা হয় এই বাসা।

যশোর সদরের কচুয়া, বাহাদুর, চাউলিয়া ও শহরের বেজপাড়া বুনোপাড়ায় তৈরি হচ্ছে পাখির বাসা। এসব স্থানে একাজে জড়িতদের সাথে কথা বলে নানা তথ্য মিলেছে।
এই পাখির বাসা তৈরি এবং বিদেশে রফতানিতে সফল হয়েছে ঢাকার এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে জড়িত তিনি। যশোরে তার এই ব্যবসা দেখাশোনা করেন গৌরাঙ্গ দাস।

সদরের রামনগর নামেজ সরদার স্কুলের পাশেই রয়েছে অফিস এবং গোডাউন। ব্যবসায়ীর সরবরাহ করা পাট ও সূতা দিয়ে ছোট, বড় ও মাঝারি এই তিন সাইজের এক একটি বাসা তৈরির মজুরি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা। আর নিজের বাঁশ বা বেত দিয়ে তৈরি বাসার মূল্য দেয়া হয় ১০ থেকে ১২ টাকা। নারীরা নিজের সাংসারিক কাজের ফাঁকে বাসা তৈরি করে থাকে। নির্দিষ্ট ডায়াসের ওপর নারকেলের ছোবড়া দিয়ে বানানো দড়ি জড়িয়ে পাখির বাসার আকৃতি করে তার উপর সুই সূতার বুননির সাহায্যে এই বাসা তৈরি হয়। একজন নারী দিনে ৭৫ থেকে ১৫০টি বাসা তৈরি করে থাকেন। মজুরিও চাওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে।

যশোর শহরের বেজপাড়া বুনোপাড়া এলাকায় ২০ পরিবারের ২৯ নারী এই কাজের সাথে জড়িত। এই কাজে জড়িত ইন্দ্রা সাহা বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে পাখির বাসা তৈরির কাজ করছি। পরিবারের জন্যে এটা আমার বাড়তি আয়।

তিনি জানান, এই কাজে আলাদা কোন সময়ের প্রয়োজন হয় না। সন্ধ্যায় টিভি দেখার সময় বা অন্য যেকোন কাজের ফাঁকে এই কাজ করে থাকি। তার জন্যে সাংসারিক কাজের কোন ঝামেলা বা সমস্যা হয় না।

আরেক এক নারী চায়না সাহা বলেন, পাখির বাসা তৈরির জন্যে বাড়তি সময় দিতে হয় না। তবে বাড়তি উর্পাজন হয়। এছাড়াও কথা হয় ঝর্না সাহা, অনামিকা, মিনা খাঁ, প্রভাতীসহ অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, ৩৫/৪০ বছর আগে থেকে আমরা এই কাজে জড়িত।

এ বিষয়ে গৌরাঙ্গ সাহা জানান, প্রতিমাসে অন্তত এক ট্রাক বাসা যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবারও এক ট্রাক বাসা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরোপের অষ্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, জার্মান, নিউজিল্যান্ডসহ থাইল্যান্ডে যচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি পাখির বাসা। এই কাজে যশোরের ২ শতাধিক নর-নারী সরাসরি জড়িত বলে তিনি জানান।