সরবরাহ বাড়ায় কমেছে ভারতীয় শুকনা মরিচের দাম

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১১:১৩

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ভারতীয় শুকনা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। বাড়তি সরবরাহে তাই দুই সপ্তাহে বাজারটিতে ভারতীয় শুকনা মরিচের দাম কমেছে কেজিতে ৪৫ টাকা। তবে মোকাম থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দেশী শুকনা মরিচের দামে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে গতকাল ভারতীয় শুকনা ঝাল মরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৩৫-১৪০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে যা ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে, ১৫ দিনে পাইকারিতে এর দাম কমেছে কেজিতে ৪০-৪৫ টাকা।

খাতুনগঞ্জের শুকনা খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ী গরীবে নেওয়াজ স্টোরের সত্ত্বাধিকারী শেখ ফরিদ জানান, ভারতের বাজারে এক মাস ধরে শুকনা মরিচের দাম অনেক বেশি কমেছে। এ অবস্থায় ভারত থেকে পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর শুকনা মরিচের দাম কমেছে।

এদিকে ভারতীয় মরিচের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাবে পণ্যটির দাম কমলেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই দেশী মরিচের দামে। বরং এ সময়ের মধ্যে সরবরাহ ঘাটতিতে মানভেদে এ পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৪-৫ টাকা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, বর্তমানে বাজারে কুমিল্লা অঞ্চলের (ঝাল) মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১৮-১২০ টাকায়। দুই-তিন সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ১১৪-১১৫ টাকা। গতকাল একই এলাকার মিষ্টি শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ১১০-১১২ টাকার বিক্রি হয়, যা এখন ১১৪-১১৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। বাজার দর অনুযায়ী, এক মাসে কুমিল্লা অঞ্চলের মরিচের দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল মানভেদে বগুড়া অঞ্চলের মরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৫০-১৫৫ টাকায়।  চলতি মাসের প্রথম দিকে যা কেজিপ্রতি ১৪০-১৪৫ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছিল।

তাছাড়া দেশীয় মরিচের মধ্যে গতকাল মানভেদে রায়পুরার মরিচ প্রতি কেজি ১০৭-১১০ টাকা, চাঁদপুরের মরিচ ১২২-১২৪ ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলের মরিচ ১৭০-১৮০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে এসব মরিচ যথাক্রমে ১০৫-১০৭, ১২০-১২২ ও ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সে হিসাবে, এসব অঞ্চলের মরিচের দাম কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী রিদওয়ানুল হক বলেন, কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে শুকনা মরিচের সরবরাহ কমেছে। এতে করে দেশী মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী আছে। গেল মৌসুমে দেশে মরিচের ফলন কিছুটা কম হওয়ায় সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ভারতীয় শুকনা মরিচের দাম কমে যাওয়ায় দেশীয় মরিচের চাহিদা কিছুটা কমেছে। তাই এ সময় দেশী মরিচের সরবরাহ ঘাটতি থাকলেও দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি।

ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ গাড়ি শুকনা মরিচ খাতুনগঞ্জে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি রয়েছে ভারতীয় মরিচও। ব্যবসায়ীদের মতে, এক সময় বাজারে দেশী মরিচের চাহিদা বেশি  ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ভারতীয় মরিচের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।