ভাই-বোনের গল্প সর্বজিৎ

প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৬, ০০:০০

বিনোদন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

ভাইকে মুক্ত করতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে বোন। অনেক সংগ্রাম আর অনুপ্রেরণার এই সিনেমা নিছক গল্প নয়। পুরোপুরি বাস্তব। ছবির নাম ‘সর্বজিৎ’। ঐশ্বরিয়া রাই আছেন বোন হয়ে। আর সর্বজিৎ স্বয়ং রণদীপ হুদা। ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০ মে।

গ্রামের সাধারণ কৃষকের ছোট পরিবার, অভাব-অনটন। তবু ছড়ানো ছিটানো সুখ, হাসি, আনন্দ, ব্যথা, ভালোবাসা, দাম্পত্য, ভাইবোনের খুনসুটি, বর্ডার, বিনা অপরাধে সর্বোচ্চ দোষে অভিযুক্ত, আর ভাইকে বাঁচাতে বোনের সংগ্রামÑ‘সর্বজিৎ’ এ গল্পই বলে। ঘটনাটা ঘটেছিল ১৯৯০ সালে। পাঞ্জাবের কাছাকাছি একটি গ্রাম। স্ত্রী, একমাত্র বোন আর বাবাকে নিয়ে থাকে সর্বজিৎ সিং।

১৯৯০ সালের একটি বিকেল, সর্বজিৎ কাজ করছিল। সেখান থেকে মাইল পাঁচেক দূরে থাকা ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সর্বজিতের জীবনে ঝড় ডেকে আনে। কী যেন এক খেয়ালে সে চেষ্টা করে বর্ডার পেরুনোর! তারপর সেই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি, সেই চূড়ান্ত অমানবিকতার উদাহরণ। সর্বজিৎ ধরা পড়ে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সদের হাতে। ভারতীয় গুপ্তচরের ভুলে সর্বজিতের ঠাঁই হয় পাকিস্তানের লাহোর কারাগারে।

পাকিস্তানে সর্বজিতের মাথায় চাপে পাহাড়সম অভিযোগ। সেখানে নিয়ে তাকে সাজানো হয় মানজিৎ সিং। এই মানজিৎ হচ্ছে ওই বছরে ঘটে যাওয়া পাঞ্জাব ও ফয়সালাবাদে সিরিজ বোমা হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত। এভাবেই হৃদয় ছোঁয়া গল্পে এগিয়ে যায় ছবিটি।

অনেকে বলছেন, ‘সর্বজিৎ’ এই মুহূর্তে বলিউডের সবচেয়ে বড় হিরো। প্রধান কারণ ছবির গল্প, মানবিকতা, বিচারহীনতার বিরুদ্ধে এক নারীর সংগ্রাম; আর ঐশ্বরিয়া ও রণদীপের দুর্দান্ত অভিনয় তো উল্লেখযোগ্য একটা কারণ বটেই।

মিকা সিং ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন সর্বজিতের বোন দলবীর কৌরের মেয়ের বিয়ের যাবতীয় খরচ তিনিই দেবেন। সনু নিগম, সুনিধি চৌহান, সুখিন্দর সিং এবং অরিজিৎ সিংÑতারা একেবারে বিনা পারিশ্রমিকে এ ছবির গান গেয়েছেন। রণদীপ হুদা, ঐশ্বরিয়া- প্রত্যেকেই যে কতটা শ্রম দিয়েছেন, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ছবিটি দেখে সর্বজিতের সেই সংগ্রামী বোন দলবীর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বলছেন, রণদীপের মধ্যে আমি আমার ভাইকে দেখেছি। ঐশ্বরিয়ার সঙ্গেও দেখা করে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন তিনি। বলছেন, ‘সর্বজিৎ যখন জেলে ছিল, তখনই আমরা তাকে নিয়ে ছবি তৈরির ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম। সিনেমার মাধ্যমে জনমত তৈরি হলে সেটা তার মুক্তির ব্যাপারে কাজে দিত। তখন হয়নি। তার মৃত্যুর পর অনেকেই ছবি করার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমি আগ্রহী ছিলাম না। যখন ওমাং কুমারের কাছ থেকে প্রস্তাব এলো, এবং শুনলাম এই ওমাং ‘মেরি কম’-এর মতো ছবি বানিয়েছে, আগ্রহী হয়েছি তখনই।’

‘সর্বজিৎ’ নিয়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে গেছেন ঐশ্বরিয়া রাই ও পরিচালক ওমাং কুমার। সেখানে ১৫ মে ছবিটির প্রিমিয়ার শো হয়েছে। ২০ মে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। অভিনয়ে আরও আছেন রিচা চাড্ডা, দর্শন কুমার, অঙ্কিতা শ্রীবাস্তব প্রমুখ।

 

"