ভারতীয় চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতিতে আগ্রাসন

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৯:৩৬ | আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৯:৪৭

প্রতীক ইজাজ
ADVERTISEMENT

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে ৬০টিরও বেশি বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই ভারতীয়। অবৈধভাবে ডাউনলিংক করা হচ্ছে সেখানকার নানা অনুষ্ঠান। অথচ বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলগুলার ওপর এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে ভারত। বাড়ছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিদেশি সিরিয়াল প্রচার। অন্যদিকে, এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সর্বনি¤œ ছয় হাজার ডলার আয় করছে সাব-টিভি, তারা টিভি ও তারা মিউজিক। আর সর্বোচ্চ আয় করছে স্টার প্লাস ১৯৫ হাজার ইউএস ডলার, স্টার মুভিজ ১১৮ হাজার ডলার ও সনি ১২৩ হাজার ডলার। এ অর্থ তারা আয় করছে গ্রাহক-চাঁদা ও বিজ্ঞাপন বিক্রি থেকে।

শুধু ভারতই নয়, নানা দেশের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন দেশে ক্রমেই বাড়ছে। আগ্রাসনের সহজ শিকার হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। কোনো ধরনের ভালো-মন্দ বিবেচনা না করেই এরা অন্ধভাবে অনুকরণ করছে এমন বিদেশি সংস্কৃতি, যার পরিণাম ভয়াবহ। এর অনিবার্য পরিণাম নিজস্ব সংস্কৃতিকে অস্তিত্বহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করছে তরুণ প্রজন্মকে। বিশেষ করে ভিনদেশি চ্যানেলের সিরিয়ালগুলো রাখছে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব। উচ্চবিত্তের পরকীয়া, বহুবিয়ে, বউ-শাশুড়ির যুদ্ধ, পারিবারিক বিরোধ প্রভৃতি বিষয়বস্তু-সংবলিত এসব প্রচারণা আঘাত হানছে নারী দর্শকদের ওপর। অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়ছে হিন্দি ভাষায়। শঙ্কার মুখে পড়েছে দেশের সংস্কৃতি।

দেশীয় সংস্কৃতিতে এই বিদেশি আগ্রাসন রুখতে মাঠে নেমেছেন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। শক্তিশালী ও কার্যকর আন্দোলনে টেলিভিশনের পরিচালক, নাট্যকার, অভিনয়শিল্পী, নেপথ্যশিল্পীসহ বিভিন্ন মাধ্যমের গুণিজনরা গড়ে তুলেছেন সম্মিলিত প্ল্যাটফরম। তারা চাইছেন, দেশের টেলিভিশনগুলো বিদেশি অনুষ্ঠানের পরিবর্তে দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর অনুষ্ঠানমালা প্রচার করুক। সুরক্ষিত হোক এই ভূখ-ের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ-ভাবনা ও চেতনা। এমনকি সাংস্কৃতিক বাণিজ্য রক্ষায় বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তারা। আন্দোলনকে কার্যকর করতে ইতোমধ্যেই গড়ে উঠেছে দেশের টিভি মিডিয়ার ১৩টি সংগঠনের সম্মিলিত প্ল্যাটফরম ‘ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনাল অর্গানাইজেশন’ (এফটিপিও)। শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন ‘মিডিয়া ইউনিটি’। প্রায় এক মাস ধরে চলা এ আন্দোলন গত কয়েকদিনে

বেশ গতি পেয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার দেশের সর্বত্র শুটিং বন্ধ রেখে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি পূরণে সরকার ও টিভি চ্যানেলকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। আর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলে ডাবকৃত বিদেশি সিরিয়াল প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে এফটিপিওর আহ্বায়ক নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে ১ জানুয়ারি থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ডাবকৃত বিদেশি সিরিয়াল প্রচার বন্ধ না হলে সেই চ্যানেলের সামনে অবস্থান নেবে শিল্পী-কলাকুশলীরা। আমরা চাই আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, ভাবনা ও সংস্কৃতি সুরক্ষিত থাক।

পাঁচ দাবির মধ্যে রয়েছে দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বাংলায় ডাবকৃত বিদেশি সিরিয়াল ও অনুষ্ঠান প্রচার বন্ধ করা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ ক্রয় ও প্রচারের ক্ষেত্রে এজেন্সির হস্তক্ষেপ ছাড়া চ্যানেলের অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে, টেলিভিশনশিল্পের সর্বত্র এআইটির ন্যূনতম ও যৌক্তিক হার পুনর্র্নির্ধারণ করতে হবে, দেশের টেলিভিশনশিল্পে বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশলীদের অবৈধভাবে কাজ করা বন্ধ করতে হবে এবং ডাউনলিংক চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে দেশীয় বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে হবে। টেলিভিশন মিডিয়া ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে খোঁজ নিয়ে দেশি টেলিভিশনে বিদেশি আগ্রাসনের এমন উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে

রমরমা বিদেশি সিরিয়াল : দেশি নাটক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিবর্তে টেলিভিশনে এখন বিদেশি সিরিয়ালের রমরমা ব্যবসা চলছে। বেসরকারি টিভি চ্যানেল দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত বাংলা ডাবিং করা তুর্কি সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’ বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি দেশের আরো বেশ কিছু চ্যানেল এরই মধ্যে ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়াল প্রচার শুরু করেছে ও আরো অনেক চ্যানেল সেই পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচার শুরু হয়েছে একসময় বিটিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘টিপু সুলতান’। ১ নভেম্বর থেকে একুশে টিভিতে প্রচার হচ্ছে ‘হাতিম’ এবং ১৪ নভেম্বর থেকে একই চ্যানেলে শুরু হবে ‘সীমান্তের সুলতান’ নামে আরেকটি বিদেশি সিরিয়াল। এ ছাড়া জিটিভিতে প্রচার হবে আরব্য রজনির জনপ্রিয় গল্প ‘আলিফ লায়লা’।

দেশীয় চ্যানেলে বিদেশি ডাব করা সিরিয়াল প্রচারের বিষয়ে কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বলেছে, চ্যানেলগুলোতো এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টা ধরে বিদেশি সিরিয়াল প্রচার হওয়ার কারণে সেই সময়টায় দেশীয় নাটক প্রচার কমে যাচ্ছে। এতে নাটক-টেলিফিল্মের নির্মাণ সংখ্যা কমছে। শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজও কমেছে। এতে অচিরেই নাট্য ইন্ডাস্ট্রিতে বেকারত্বের সংখ্যা বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশীয় নাটক-সিরিয়াল ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের প্রতি বিরক্ত হয়ে দর্শকরা বিদেশি সিরিয়াল ও অনুষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। আর দেশীয় নাটক-সিরিয়ালের প্রচারের সময় প্রচুর বিজ্ঞাপন বিরতি দেওয়া হয়। সেটির ফলেও দেশীয় অনুষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলেও জানান ওই বিশেষজ্ঞরা।

লাভের দিকে ঝুঁকছেন মালিকরা : বর্তমানে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলায় ডাব করা বিদেশি সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’। বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোয় প্রচারিত অন্য জনপ্রিয় অনুষ্ঠানের মধ্যেও বেশির ভাগই বিদেশি। জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় বিজ্ঞাপনদাতারাও ঝুঁকছেন সেদিকেই। ফলে ব্যবসাও বেশি যাচ্ছে এসব অনুষ্ঠান সম্প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেলে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের একাংশ। বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয়ই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর মূল ব্যবসা। অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এএএবি) হিসেবে, দেশে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের বাজার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে এ বাজারের আকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজ্ঞাপন পেতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে শরণাপন্ন হতে হয় বিজ্ঞাপনদাতাদের। কিন্তু বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ বিজ্ঞাপনদাতারা এখন বিদেশি চ্যানেল ও অনুষ্ঠানকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বেশি। এতে সংকুচিত হচ্ছে দেশীয় চ্যানেল ও অনুষ্ঠানের বাজার।

বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচারের বিরোধিতায় ‘মিডিয়া ইউনিটি’ তৈরি করেছে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের একাংশ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে নিজেদের জোরালো অবস্থান তুলে ধরে তারা। ওই সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ও ৭১ টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে গত বুধবার একটি মানহানির মামলা করেছেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। আর এর মধ্য দিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের ব্যবসায়িক বিবাদ প্রকাশ্য রূপ পেল।

জানতে চাইলে মোজাম্মেল বাবু বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার কোনো সীমা নেই। প্রতিযোগিতা ও এর তীব্রতা থাকবেই। এর মধ্যেও মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান দিয়ে আমাদের টিকে থাকতে হবে। দেশের বাইরে বিজ্ঞাপন প্রচার অবৈধ। অবৈধ কর্মকা-কে অবৈধ বললে কী করে মানহানি হয়, তা বোধগম্য নয়। তা ছাড়া প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখতে রাজস্ব বোর্ডের তদন্তও চলছে।

অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এএএবি) সভাপতি রামেন্দু মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি চ্যানেলগুলো মূলত হুজুগে চালু হয়েছে। হাতেগোনা চার-পাঁচটি ছাড়া কেউ ব্যবসাসফল নয়। তার পরও চ্যানেল আসছে। এতে এটাই প্রমাণ হয়, ব্যবসা ছাড়াও অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বেসরকারি টিভি চ্যানেল চালু করা হচ্ছে।

টেলিভিশন বেড়েছে, মান বাড়েনি : ১৯৯৭ সালে এটিএন বাংলার মাধ্যমে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ব্যবসার যাত্রা হয়। খাতটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায় একুশে টিভির হাত ধরে। এরপর গত প্রায় দুই দশকে আরো অনেক বেসরকারি চ্যানেল সম্প্রচারে এসেছে। বর্তমানে অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি টিভি চ্যানেল রয়েছে ৪৩টি। এর মধ্যে সম্প্রচারে আছে ২৬টি। সম্প্রচারের অপেক্ষায় আছে আরো ১৩টি চ্যানেল। সমীক্ষা অনুযায়ী, টেলিভিশন দর্শক প্রতি বছর ১৫-২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। আর এ দর্শক আকৃষ্ট করতে নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এমন অনুষ্ঠানের দিকেও ঝুঁকছেন চ্যানেল মালিকরা। অনুষ্ঠানের মানোন্নয়ন না ঘটিয়ে উল্টো বাজার দখলের মানহীন প্রতিযোগিতায়ই বেশি মনোযোগী তারা। এতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন দেশীয় অনুষ্ঠান নির্মাতারা।

বিজ্ঞাপনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিচে নামাটা মোটেই কাম্য নয় বলে মনে করেন আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনের বাজার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। তবে বাজার দখলের জন্য বিজ্ঞাপনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নীতি বিসর্জন দেওয়া মোটেও কাম্য নয়। অনুষ্ঠান প্রচারের মান বাড়িয়ে দর্শক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারলে বিজ্ঞাপনদাতারা এমনিতেই বিজ্ঞাপন দেবেন।

বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানের মান পড়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবারই দায় রয়েছে বলে মনে করেন চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসাও সম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে প্রচার হচ্ছে হোক। কিন্তু একই সুযোগ সহজশর্তে আমাদেরও পাওয়া দরকার। যেকোনো পরিস্থিতিতেই অসুস্থ পরিবেশ কাম্য নয়।

সরকার নিশ্চুপ : বাংলাদেশের ‘অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনারস’-এর নেতারা গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় এরা টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে বিদেশি চ্যানেলগুলোর ওপর ইউজার ট্যাক্স বসানোর সুপারিশ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে সে দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না। অথচ ভারতীয় চ্যানেলগুলো আমাদের বাজার দখল করে তাদের পণ্য ও বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে। ভারতীয় চ্যানেলগুলোকে বাংলাদেশ সরকারকে কোনো কর দিতে হয় না। অন্যদিকে বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল মালিকদের ভ্যাট দিতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। এমনকি জাতীয় বাজেটেও বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ওপর কোনো কর আরোপ করা হয়নি। ফলে দেশের টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টির দাবিটি উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

সূত্রমতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সে দেশের বাংলা ছবি প্রদর্শনের ওপর যে পরিমাণ কর আদায় করে, হিন্দি ছবি প্রদর্শনের ওপর আরোপ করে এর কয়েক গুণ বেশি কর। কারণ, সরকার চায় পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রশিল্পকে সংরক্ষণ সুবিধা দিতে। কিন্তু দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্বার্থ রক্ষায় চলছে সম্পূর্ণ উল্টো ভূমিকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর জন্য দায়ী সরকারের নতজানু চরিত্র। এর ফলে আমরা একদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, অন্যদিকে দেশে হিন্দি সংস্কৃতির আগ্রাসনের দুয়ার খুলে দিয়েছি। এর পরিণিতি যে ভয়াবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।