শি চিনপিং ও পেং লিউইয়ানের ভালোবাসার খোঁজে

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৬, ১৮:৫৭ | আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৬, ১০:৩৩

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

তেং চিয়াওপিং এর পর শি চিনপিং কে চীনে সর্বোচ্চ শক্তিধর নেতা হিসেবে মানা হয় । তিনি একাধারে চীনের প্রেসিডেন্ট, কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ও সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান । চীনের উপকূলীয় প্রদেশ ফু চিয়ান থেকে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দলে তার পদোন্নয়নের ফলে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন । ১৯৯৯-২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি ফুচিয়ান প্রদেশের গভর্ণর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । পরবর্তীতে ২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী প্রদেশে ট্রা-জিয়াংয়ে গভর্ণর হিসেবে ছিলেন এবং একই সঙ্গে তার পার্টিতে সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন । ২০০৮-২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন । এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট হন

শি চিনপিং এর বর্তমান স্ত্রী পেং লিউইয়ান আসলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী । প্রথম স্ত্রী ছিলেন কে লিং লিং । তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত কে হুয়ার কন্যা । কিন্তু তার সঙ্গে শি চিনপিং এর বিয়ে টেকেনি । ১৯৮০ সালে তারা বিয়ে করেন এবং কয়েক বছরের মাথায় তাদের এই বিয়ে ভেঙ্গে যায় ।

১৯৮৬ সালে পেং লিউইয়ানের সঙ্গে শি চিনপিংয়ের দেখা হয় । পেংয়ের বন্ধুরা শি চিনপিংয়ের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন । প্রথম পরিচয়েই চিনপিং পেং এর প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন । কিন্তু পেং প্রথম দেখায় একদমই পছন্দ করতে পারেননি চিনপিংকে । পেং এর ভাষ্যমতে, তাকে দেখতে বয়স্ক ও সেকেলে লাগছিলো এবং আমি প্রথম দেখাতে একদমই পছন্দ করিনি ।

শি চিনপিং এরপর পেংয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগ শুরু করেন সঙ্গীত সম্পর্কে তার জ্ঞান বাড়ানোর উছিলায় । এরপর তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন তখন পেং পুরো চীনে তার গায়কী ও প্রতিভার জন্য বিখ্যাত ছিলেন । পেং তখনকার নামকরা চীনা লোকসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন । চিনপিং তখন উঠতি রাজনীতিবিদ । তার সুখ্যাতি তেমন একটা ছড়ায়নি । মাত্র ডিভোর্সপ্রাপ্ত  চিনপিং এর মনে পেং শেকড় গাড়তে শুরু করেন ।

পেং এর অতীত জীবন ছিলো অত্যন্ত কষ্টের । তার বাবা একজন শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মাও সেতুংয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় শৌচাগার পরিস্কারের কাজ করতে হয়েছিলো । সে সময় পেং এর পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো । পরবর্তীতে তা কাটিয়ে উঠলেও মাওয়ের সেনাদের উপর তাদের একধরণের বিতৃষ্ণা গড়ে ওঠে । অন্যদিকে চিনপিংয়ের বাবা ছিলেন মাওয়ের সময়কার কমিউনিস্ট ভেটেরান । তাই পেং সহজে  চিনপিং এর প্রস্তাবে রাজী হতে পারছিলেন না । পেংকে রাজী করতে  চিনপিং এও বলেন, আমার বাবা একজন কৃষকের সন্তান, খুবই সাধারণ একজন মানুষ। যেমন সাধারণ হয় একটা জুতা ।

পেং পরবর্তীতে রাজী হয়ে যান চিনপিংয়ের প্রস্তাবে । চিনপিং এর শিষ্টাচার দেখে তারা পেংয়ের  সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে রাজী হন । ১৯৮৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারা চীনের ফুচিয়ান প্রদেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন । এর মাত্র ৪ দিন পর পেং  পেইচিং এ চলে যান ন্যশনাল আর্ট ফেস্টিভ্যাল এ অংশ নিতে । তারপর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাকে সঙ্গীত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য যেতে হয় । প্রায় ১৫ বছর তারা আলাদা জীবন কাটান । এই ১৫ বছরে চিনপিংয়ের জীবনে ৬ জন নারী আসার গুজব থাকলেও তার কোন সত্যতা পাওয়া যায় নি । পেং ও  চিনপিংয়ের ঘরে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

চিনপিং কে একজন কঠোর পরিশ্রমী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন পেং । একজন স্বামী হিসেবে চিনপিং কেমন এ প্রশ্নে পেং বলেন, সে যখন ঘরে প্রবেশ করে আমার কাছে মনে হয় না তিনি একজন নেতা । আমার চোখে সে শুধুই আমার স্বামী ।

পেং আর শি চিনপিংয়ের প্রেম এর পথ খুব একটা মসৃন ছিলো না । তবে স্ত্রীর প্রতি চিনপিং এর ভালোবাসা অটুট । পেংকে তিনি সবচেয়ে বেশি সবার সামনে আনেন । অন্য কোনও চীনা ফার্স্ট লেডিকে এভাবে দেখা যায়নি । যেমন, ২০১৪ এর মার্চ মাসে ওবামার চীন সফরে মিশেলকে সাদর অভ্যর্থনা জানান পেং নিজে ।

শি চিনপিং রাজনৈতিক জীবনে যেমন সফল, ব্যক্তিগত জীবনেও সফল । যা পেং এর হাস্যোজ্জ্বল মুখের দিকে তাকালে সহজে অনুধাবন করা যায় ।

ডেইলি মেইল ও উইকে  পিডিয়া থেকে ভাষান্তর : রুবাইয়া হাসনাত বর্ণা