২ বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েছে ৫ শতাংশ

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৬, ১৭:১১

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

২০১৫ ও ২০১৬ সালের এখন পর্যন্ত নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নারী নির্যাতনে জড়িত ৮৬ শতাংশ ব্যক্তির বয়স ৩৫ বছর বা এর কম। আর অভিযুক্ত পুরুষদের ৩৭ শতাংশের বয়স ১৮-২৪ বছর বয়সের।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষকে সামনে রেখে বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি ২০১৫-১৬ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাভোকেট সালমা আলী গত দুবছরে নারীর প্রতি সহিংসতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে দেশের সাতটি বিভাগের ৬৬টি থানায় দায়েরকৃত ২ হাজার ৩০৭টি মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের মধ্য থেকে দৈব চয়ন পদ্ধতিতে ১৯৮ জনকে বেছে নেওয়া একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, জরিপের ফলাফল থেকে দেখা গেছে, নির্যাতনে জড়িত ৮৬ শতাংশ ব্যক্তির বয়স ৩৫ বছর বা এর কম। ২৪ শতাংশ ব্যক্তি ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করার দায়ে অভিযুক্ত। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র, বেকার বা কর্মঠ সব শ্রেণির নারী ও শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। মূলত নারী ও শিশুদের প্রতি প্রচলিত সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সহিংসতা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে ৯২ শতাংশ শিশু (১৮ বছরের নিচে) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা কর্তৃক বিশেষ বিধান সম্বলিত (১৮ বছরের নিচে বিয়ে দেওয়ার সুযোগ রেখে) বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন অনুমোদন করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। বলেন, এ বিশেষ বিধানের অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে বাল্য বিয়ে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সালমা আলী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। তনুর মা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, অনেকদিন হয়ে গেল এখনও আমার মেয়ের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। সার্জেন্ট জাহিদকে ধরে রিমান্ডে নিলেই সব ঘটনা জানা যেতো। সংবাদ সম্মেলনে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়।