তিনমাস পর ফিরলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৬, ২০:৩৬

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT
ডেভরিম ওসতুর্ক

যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য’ বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওসতুর্ক তিনমাস পর আঙ্কারা থেকে ঢাকায় ফিরেছেন।

নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান এক বিবৃতি দেওয়ার পর গত ১২ মে ঢাকা ছেড়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রদূত ওসতুর্ক ঢাকায় ফিরেছেন বলে তুরস্ক দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রদূত ওসতুর্ক ঢাকায় ফিরে কাজে যোগ দিয়েছেন বলে তারাও একটি বার্তা পেয়েছেন।

দুদিন আগে তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকিও আঙ্কারায় ফিরে কাজে যোগ দেন। রাষ্ট্রদূত ওসতুর্ককে তুরস্ক ফিরিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে আল্লামা সিদ্দিকিকেও ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছিল বাংলাদেশ সরকার।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের ফাঁসি কার্যকর ঠেকাতে গত তিন বছরে বার বার বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসা তুরস্ক গত ১০ মে মধ্যরাতে যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের দুদিনের মাথায় ঢাকায় তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠায়।

একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে গণহত্যায় অংশ নেওয়া আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী। বুদ্ধিজীবী হত্যার ‘মাস্টামাইন্ড’ হিসেবে আদালতের রায়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এর নিন্দা জানিয়ে পাঠানো বিবৃতিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্টি রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেন, মৃত্যুদণ্ড হওয়ার মতো ‘কোনো পার্থিব পাপ’ নিজামীর নেই বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গত মাসে তুরস্কে একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামরিক বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাসহ প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীদের মৃত্যুদণ্ড চালু করতে সম্প্রতি আইন সংশোধনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের এই প্রেসিডেন্ট।