শেষ হলো উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৬, ১০:৫৪

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের শেষ রাতে সুরের জাদুতে মুগ্ধ করলেন পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। সন্তুরের সুরে শিশির ভেজা অন্যরকম আবেশ ছড়ালেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মাও। তিনি মঞ্চে এসে সবার উদ্দেশে বলেন, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত বুঝতে হলে বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নেই। মনোসংযোগ দিয়ে অনুভব করলেই সহজাতভাবেই এটা ছুঁয়ে যাবে আত্মাকে।

এরপরই শুরু করেন তার পরিবেশনা। সান্ধ্যকালীন রাগ যোগের আশ্রয়ে রাঙিয়ে দেন শ্রোতার মন। আলাপ দিয়ে শুরু করে রূপক তাল পেরিয়ে পৌঁছে যান তিন তালে। সবশেষে পাহাড়িয়া ধুন বাজিয়ে নিসর্গকে যেন ছবির মতো সামনে নিয়ে আসেন।

পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশি বেজেছে সবার শেষে। মন্ত্রমুগ্ধ করা সে বাঁশি আর্মি স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বাঁশির সুরের আবেশকে সঙ্গী করেই আসর ভাঙল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের এবারের আয়োজনের। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে উৎসর্গ করে এবারের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবের শুরুটা হয়েছিল ২৪ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)।

উৎসবে সমাপনী ও পঞ্চমদিন হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার বাঁশি ও পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার সন্তুরের পরিবেশনা ছাড়াও দলীয় কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীরা। দলীয় সেতার বাজিয়ে শোনান বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা।

কুমার মারদুর শোনান খেয়াল। সেতার পরিবেশন করেন পণ্ডিত কুশল দাস। খেয়াল পরিবেশন করেন আরতী অঙ্কালিকার। সমাপনী দিনের পরিবেশনার শুরুতেই কণ্ঠসঙ্গীত পরিবেশন করেন ঢাবির সঙ্গীত বিভাগের শিল্পীরা। সমবেত কণ্ঠে তারা রাগ ভূপালি পরিবেশন করেন। তবলায় ছিলেন জাকির হোসেন ও স্বরূপ হোসেন।

দলীয় সেতার বাজিয়ে শোনান বেঙ্গল পরম্পরা সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা পরিবেশন করেন চারুকেশী। নিশিত দে, সাম্মো দে, আশিশ নারায়ণ সরকার, প্রসেনজিৎ মণ্ডল, আহম্মেদ ইমতিয়াজ হুমায়ুন, টিএম সেলিম রেজা, খন্দকার নজমুস সাকিব, রিংকুচন্দ্র দাস, মেহরিন আলম, জ্যাতি ব্যার্নাজি, জাহাঙ্গীর আলম শ্রাবণ, মো. কাওছার প্রমুখের বাদনশৈলী মাতিয়ে রাখে দর্শক-শ্রোতাদের।

দেশের শিল্পীদের এই দুই পরিবেশনার পরেই ছিল উৎসবের সমাপনী ঘোষণার আয়োজন। অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।

সমাপনী আয়োজন শেষে মঞ্চে আসেন উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। তার সন্তুরের অপূর্ব পরিবেশনা শেষে খেয়াল নিয়ে মঞ্চে আসেন কুমার মারদুর। সেতার পরিবেশন করেন পণ্ডিত কুশল দাস। সেতারের তারে তারে তিনি সুরের ধারা বইয়ে দেন। পণ্ডিত কুশল দাসের পর খেয়াল পরিবেশেন করেন আরতি অঙ্কালিকার। তবলায় তাকে সঙ্গত করেন রোহিত মজুমদার। পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার জাদুকরী বাঁশির সুরে সুরে শেষ হয় এ উৎসব।