সাংস্কৃতিক আন্দোলনই একমাত্র পথ : জাফর ইকবাল

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৬, ২০:৪৩

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

তরুণদের বিপথগামিতা রোধে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকেই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

তিনি বলেন, পারলৌকিক চিন্তায় বিভোর তরুণ প্রজন্মের একটা অংশে ধর্মীয় বিভাজন ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছে গেছে। কম বয়সী ছেলেগুলো যখন নিজেকে নিয়ে, দেশ ও সমাজকে নিয়ে চিন্তা করবে, তখন তারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করে পরকালের পুরস্কার পাবার কথা ভাবছে। আমার মাথায় এসব চিন্তাধারা ঢুকে না।

 

শুক্রবার সকালে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বাউলদের নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও সকল জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশব্যাপী ‘জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

জাফর ইকবাল বলেন, স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েদের আমাদের বোঝাতে হবে, এ দেশের জন্য লাখো মানুষ জীবন দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল, প্রতিটি ধর্মের মানুষ পাশাপাশি অবস্থান করবে, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বজায় থাকবে প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে। তারা একদিন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হবে, হাতে হাত রেখে এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।

 

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম প্রমুখ।

 

আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত বাউল। তাদের জীবনধারা, ভাববাদের কথা উল্লেখ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের উপর হামলা, নিপীড়নেরও তীব্র নিন্দা জানান দেশের এই বরেণ্য শিক্ষক।

 

কণ্ঠশিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমও বাউলদের উপর অত্যাচার, নিপীড়নের নিন্দা জানান। বিভিন্ন সময়ে বাউলদের উপর হামলা হলেও তার জোরালো প্রতিবাদ না হওয়ায় জঙ্গিরা আরো মারমুখী হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

মমতাজ বেগম জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনের কার্যক্রমগুলোকে রাজধানীকে ছাড়িয়ে গ্রামে-গঞ্জে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে গিয়ে আমরা নাটক-গান-কবিতার বড় আসর করে মানুষকে বলবো আমাদের কথা।

 

অনুষ্ঠানে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে ছিল কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ। এতে কবিতা পাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, সংসদ সদস্য ও কবি কাজী রোজী, কবি মুহাম্মদ সামাদ, শাহজাদী আঞ্জুমান আরাসহ আরো অনেক কবি। অনুষ্ঠানে সমবেত সংগীত পরিবেশন করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউলরা। বৃন্দ পরিবেশনা ছিল ঢাকা সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা।

 

এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলে শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে মাসব্যাপী আয়োজন। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন দিনের মরমি গানের আসর। শুক্রবার ছিল তৃতীয় দিন।

এদিন ফকির লালন সাঁইজির ভাবশিষ্যদের ভাবগীত পরিবেশনার করে বাউলশিল্পীরা। বিশেষ করে মানবতাধর্ম কথা সম্বলিত গান পরিবেশন করেন তারা। অন্যদিকে একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে দেখানো হয় তারেক মাসুদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রানওয়ে’ ও আবু সাঈয়ীদের ‘অপো’।

 

‘ফকির লালন সাঁইজির ঘরানার ভাবশিষ্যদের সম্মিলনী ও ভাবগীত পরিবেশনা’ শীর্ষক শুক্রবার থেকে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় ১৫৫জন বাউল শিল্পীর অংশগ্রহণে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হয়েছে মরমী গানের আসর।