বুধবার এস এম সুলতানের ৯২তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৬, ১৩:৩৪ | আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৬, ১৩:৫৮

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯২তম জন্মবার্ষিকী বুধবার। এ উপলক্ষে এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এসএম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—শিল্পীর মাজার জিয়ারত, মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী। শিল্পীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর চিত্রা নদীতে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য আকর্ষণীয় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। 

এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও নড়াইলের জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানান, জাকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট শিল্পী এসএম সুলতান নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজমিস্ত্রি পিতা মেছের আলীর নান্দনিক সৃষ্টির ঘঁষামাজার মধ্য দিয়ে ছোটবেলার লাল মিঞার (সুলতানের ডাক নাম) চিত্রাংকনে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে। অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালীন লাল মিঞা নড়াইলের তৎকালীন জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের সুদৃষ্টিতে পড়েন। এসময় তিনি সুলতানকে কলকাতায় নিয়ে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও শিল্প-সমালোচক কলকাতা আর্ট স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক সায়েদ সোহরাওয়ার্দির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একাডেমিক যোগ্যতা বিচার না করেই ১৯৪১ সালে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অষ্টম শ্রেণী পাস সুলতানকে কলকাতা আর্ট কলেজে ভর্তি করা হয়। ১৯৪৪ সালে কলেজের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান দখল করে চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু পুথিগত শিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেননি তিনি। ছাত্রাবস্থায় তিনি কলেজ ছেড়ে কাশ্মীরের পাহাড়ি অঞ্চলে উপজাতীয়দের সঙ্গে বসবাস ও তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে চিত্রাংকন শুরু করেন। পরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফরে বেড়িয়ে পড়েন।

শিল্পী সুলতান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সফর করেন এবং এসব দেশের প্রখ্যাত চিত্রকরদের সঙ্গে তার ছবি প্রদর্শিত হয়। ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকে শিল্পী সুলতান মাটির টানে দেশে ফিরে আসেন এবং নিজস্ব উদ্যোগে জন্মস্থান নড়াইলের মাছিমদিয়ায় ফাইন আর্ট স্কুল ও ‘শিশুস্বর্গ’ নামে শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। শিশু-কিশোরপ্রিয় সুলতান ১৯৮০ সালে নিজ বাড়িতে শুরু করেন শিশুস্বর্গের নির্মাণকাজ। ১৯৯২ সালে ৯ লাখ মতান্তরে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের ‘ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ’ নামে দ্বিতল নৌকা নির্মাণ করিয়েছিলেন। এ নৌকায় তিনি শিশুদের নিয়ে চিত্রা নদীতে ঘুরে বেড়াতেন এবং নৌকার মধ্যেই তাদের (শিশুদের) চিত্রাংকন শেখাতেন। সুলতানের শিল্পকর্ম ছিল বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর ইত্যাদি। চিত্রাংকনের পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পারতেন শিল্পী সুলতান। পুষতেন সাপ, ভল্লুক, বানর, খরগোশ, মদনটাক, ময়না, গিনিপিক, মুনিয়া, ষাঁড়সহ বিভিন্ন পশু-পাখি। বাড়িতে একটি মিনি চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য শিল্পীর মৃত্যুর পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে ২০০৩ সালে মাছিমদিয়ার বাসভবন সংলগ্ন ২একর ৫৭ শতক জমির ওপর নির্মিত হয়েছে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।

বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ওই বছর ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’ম্যান অব এশিয়া’ ঘোষণা ও ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর চিরকুমার, অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পী দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।