বর্তমান সঙ্কট উত্তরণে রবীন্দ্রনাথ পড়তে হবে: শামসুজ্জামান খান

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৬, ০৮:৩২ | আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৬, ০৮:৫৪

মীর হেলাল
ADVERTISEMENT

রবীন্দ্রনাথ না থাকলে বিশ্বে বাংলাদেশের গর্ব করার মতো তেমন কিছু থাকতো না। তাই আমাদের চর্চার মধ্য দিয়ে যেন রবীন্দ্রনাথ আপন আলোয় আলোকিত হন এদিকটি মাথায় রাখতে হবে। বর্তমান সঙ্কট উত্তরণে রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক মনে করে পাঠ করতে হবে। 

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান রবীন্দ্র পুরস্কার-২০১৬ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।  এবার বাংলা একাডেমির এই পুরস্কার পেয়েছেন রবীন্দ্রগবেষক অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেন ও রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী তপন মাহমুদ। আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণবার্ষিকীর সমাপনী দিনে রোববার বিকেলে তাদের হাতে পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে একাডেমির সভাপতি ইমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, যে সংকটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চলছে তার কারণ খুঁজতে হলে রবীন্দ্রনাথ পড়তে হবে। যারা এই সংটের সৃষ্টি করছে তার কেউ রবীন্দ্রনাথের প্রতি আগ্রহী নন। তাই যারা সংকট উত্তরণের কথা ভাবেন তাদের উচিত রবীন্দ্র পাঠ করা।

পুরস্কার গ্রহণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করেন আকরম হোসেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বাঙালির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। জানি না আমি কী কাজ করেছি। তবুও একাডেমি মনে করেছেন সেকারণে আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তপন মাহমুদ বলেন, জাতির সংকটকালে আমি এই পুরস্কার পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। সেইসঙ্গে শঙ্কিত আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌঁছতে পারার জন্য। রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা জীবনে প্রয়োগ করতে না পারার জন্য। আমি প্রত্যাশা রাখবো সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সেই লক্ষ্যে পৌঁছবো। সে কাজে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, সমাজ, রাজনীতি, শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চায় রবীন্দ্রনাথের দর্শন প্রাসঙ্গিক। বিভাজিত বিশ্বে যখন ধর্মের নামে অধর্মের আচরণ চলছে তখন তো রবীন্দ্রনাথ আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। তার দর্শনের তিনটি বিষয় রয়েছে তা হলো সত্য আনন্দ ও মঙ্গল। এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই তার কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি কালের শ্রেষ্ঠ রূপকার এ কথা যেমন সত্যি একইসঙ্গে তিনি কালোত্তীর্ণ এ কথাও সত্যি। আমরা তার চিন্তা জীবনে প্রয়োগ করবো।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অদিতি মহসীন। কবিতা আবৃত্তি করেন মাহিদুল ইসলাম।