রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসাহিত্যের এক সৃষ্টিশীল বিস্ময় : প্রকাশনা উৎসবে বক্তারা

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৬, ২১:১৩

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT

বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসাহিত্যের এক সৃষ্টিশীল বিস্ময়। তার বিচিত্রগামী জীবন ধারণ করেছে তার নিজের জীবন এবং একই সঙ্গে বাংলা, ভারত ও বিশ্বপরিসরে।

শনিবার ২২শে শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের ৭৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আহমদ রফিক রচিত রবীন্দ্রজীবন (তৃতীয় খন্ড)-এর প্রকাশনা উৎসবে বক্তরা এ কথা বলেন ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক শফি আহমেদ এবং অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

স্বাগত ভাষণে শামসুজ্জামান খান বলেন, কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমি বাংলাদেশ থেকে রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাঙ্গ জীবনী প্রণয়ন ও প্রকাশের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরিকল্পিত পাঁচ খন্ডের প্রথম দু’টি খ- রচনার পর জীবনীকার আবদুশ শাকুর প্রয়াত হওয়ায় প্রখ্যাত রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিককে বাকি তিনটি খন্ড রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রজীবন (তৃতীয় খণ্ড) রচনা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রচর্চায় যেমন নতুন মাত্রা যুক্ত হবে তেমনি আমাদের তরুণ প্রজন্ম রবীন্দ্রজীবন ও সৃষ্টির মধ্য থেকে ইতিবাচক ভবিষ্যত গড়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে।

লেখকের প্রতিক্রিয়ায় আহমদ রফিক বলেন, রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসাহিত্যের এক সৃষ্টিশীল বিস্ময়। তার বিচিত্রগামী জীবন ধারণ করেছে তার নিজের জীবন এবং একই সঙ্গে বাংলা, ভারত ও বিশ্বপরিসরে। রবীন্দ্রজীবন-তৃতীয় খন্ডে তার কর্মময় জীবনের এক বিশেষ পর্বে আলো ফেলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের জীবনতথ্য উন্মোচিত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর সময়ের ধারাক্রম অনুধাবন সম্ভব হবে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিকের রবীন্দ্রজীবন (তৃতীয় খন্ড) বইটি বাংলা একাডেমির একটি অসাধারণ প্রকাশনা। এই বই এমন এক কবি ও চলিষ্ণু কর্মীমানুষ সম্পর্কে প্রণীত হয়েছে যিনি তার ব্যক্তিত্ব ও সৃষ্টিপ্রতিভার অসাধারণত্বের মধ্য দিয়ে, শ্রমশীলতার প্রকাশে বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, রবীন্দ্রজীবন বইটি আমাদের ইতিহাসচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকবে।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথের জীবনই তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি- তাকে কোন কাঠামোবদ্ধ জীবনীতে তুলে ধরা অসম্ভব কাজ। তবে আহমদ রফিক যে বিপুল তথ্য-সমাবেশে, মননশীল বিশ্লেষণে এবং আন্তর্জাতিকতার বৃহত্তর পরিসরে রবীন্দ্রনাথকে অনুধাবনের প্রয়াস চালিয়েছেন- তার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রজীবনী-চর্চায় এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি হবে।