প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী আর নেই

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০১৬, ১৬:৪৪ | আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৬, ১৯:২৪

অনলাইন ডেস্ক
ADVERTISEMENT
১৯২৬-২০১৬

প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ :১৬ টায় কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর শেশকৃত্যে সামিল হতে দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে কলকাতায় ফিরেছেন মমতা ব্যানার্জি। টুইটারে শোক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ‘‌ভারত মহান এক লেখিকাকে হারাল। বাংলা হারাল তাঁর মা কে। আমি হারালম নিজের শিক্ষককে।’‌  গত ১৪ দিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বার্ধক্য জনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ১৯২৬ সালে বাংলাদেশের ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন মহাশ্বেতা দেবী। পিতা মনীশ ঘটক ছিলেন কল্লোল সাহিত্য আন্দোলনের এক নামজাদা ঔপন্যাসিক। এবং কাকা ছিলেন বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক ঋত্বিক ঘটক। ১৯৭৯ সালে অরণ্যের অধিকার উপন্যাসের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান মহাশ্বেতা। জ্ঞানপীঠ, পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ, বঙ্গবিভূষণে সম্মানিত হয়েছিলেন তিনি।

শুধু বাংলায় নয়, বর্তমান সময়ে ভারতের সবচেয়ে প্রবীণ সাহিত্যিকদের অন্যতম ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। গোটা দেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে সমসাময়িক কালে সবচেয়ে সম্মানিত নামগুলির অন্যতমও ছিলেন তিনি।  মহাশ্বেতা বেদীর মৃত্যুর খবর শুনতেই শোকস্তব্ধ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেছে দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালটিতে। অনুরাগী, সাধারণ মানুষ তো বটেই, রাজ্যের মন্ত্রী, শিল্পী, সাহিত্যিকরাও একে একে ভিড় জমাতে শুরু করেন হাসপাতালে।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে ‘হাজার চুরাশির মা’, ‘অগ্নিগর্ভ’-সহ একাধিক উপন্যাস।  তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে ‘রূদালি’, ‘হাজার চওরাশি কি মা’-র মতো ছবি হয়েছে। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিক আন্দোলনেও যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তাঁর ছেলে সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য ২০১৪ সালে প্রয়াত হয়েছিলেন।

লেখালিখির পাশাপাশি সবসময় সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে নিজকে জড়িয়ে রাখতেন মহাশ্বেতা দেবী । তিনি অধ্যয়ন করেছিলেন শান্তিনিকেতনে, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভারতের প্রাক্তন সরকারের বিপুল পরিমাণে কৃষিজমি অধিগ্রহণ এবং স্বল্পমূল্যে তা শিল্পপতিদের কাছে বিতরণের নীতির তিনি কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এছাড়া তিনি শান্তিনিকেতনে প্রোমোটারি ব্যবসার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছেন। মহাশ্বেতা দেবী শিক্ষালাভের জন্য শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে এম এ ডিগ্রী লাভ করেন।

দিল্লিতে পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মহাশ্বেতাদেবী দীর্ঘদিন অবহেলিত, শোষিত মানুষদের নিয়ে কাজ করেছেন। ২০০৬-এ যখন সিঙ্গুর আন্দোলন করি, তখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়ে আমার অনশনের ৭-৮ দিন থেকেই নিয়মিত আমাদের অনশন মঞ্চে আসতেন তিনি।’ মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী  বলেন ‘আমার মায়ের মৃত্যুর পরে থেকেই নিয়মিত ফোন করে খেয়েছি কি না, উনি তা খোঁজ নিতেন। আমিও তিন-চারমাস অন্তর ওঁকে দেখতে যেতাম।’

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শুক্রবার মহাশ্বেতা দেবীর শেষকৃত্য হবে । মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাতে মহাশ্বেতা দেবীর মৃতদেহ তপসিয়ার পিস ওয়ার্ল্ডে রাখা থাকবে। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রবীন্দ্র সদনে প্রয়াত লেখিকার মরদেহ শায়িত থাকবে। সেখানেই সাধারণ মানুষ মহাশ্বেতী দেবীকে তাঁদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। একটা নাগাদ মিছিল বের করে শেষকৃত্য করা হবে। কোথায় শেষকৃত্য হবে তা মহাশ্বেতা দেবীর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরে কেওড়াতলায় মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। 

ভারনতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর শোকবার্তায় টুইটারে জানিয়েছেন, মহাশ্বেতা দেবী অসামান্য দক্ষতায় কলমের শক্তিকে দেখিয়েছেন। মানবদরদী মহাশ্বেতার লেখায় সাম্য এবং ন্যায়বিচার স্থান পেয়েছ। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে দুঃখিত।

শিল্পী এবং সাহিত্যিক জগৎও মহাশ্বেতা দেবীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ। অভিনেতা প্রসেনজিৎ টুইট করে জানিয়েছেন, এটা আমাদের জন্য কালো দিন। মহান লেখিকা মহাশ্বেতা দেবী প্রয়াত। আমরা ওঁর লেখা পড়েই বড় হয়েছি। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।